স্বচ্ছ ভারত মিশন' শুরু হয় চারপাশ পরিষ্কার রাখার একটি সাধারণ বার্তা

স্বচ্ছ ভারত মিশন' শুরু হয় চারপাশ পরিষ্কার রাখার একটি সাধারণ বার্তা




সঞ্চিতা চ্যটার্জ্জী: ২০১৪ সালের ২ অক্টোবর 'স্বচ্ছ ভারত মিশন' শুরু হয় চারপাশ পরিষ্কার রাখার একটি সাধারণ বার্তা নিয়ে। ঝাড়ু, আবর্জনা ফেলার পাত্র এবং জনগণের অংশগ্রহণের মাধ্যমে যা শুরু হয়েছিল, তা দ্রুত একটি গণ-আন্দোলনে পরিণত হয়। আজ এই আন্দোলন এক নতুন প্রযুক্তিকে গ্রহণ করছে। শহরের পয়োনিষ্কাশন এবং বর্জ্য ব্যবস্থাপনা এখন ডিজিটাল, সেন্সর-ভিত্তিক ও বিদ্যুতচালিত হচ্ছে। স্বয়ংক্রিয় ড্যাশবোর্ড, কৃত্রিম বুদ্ধি সম্পন্ন রোবট এবং বৈদ্যুতিক গাড়ির মাধ্যমে 'স্বচ্ছতা' অভিযান এখন আরও আধুনিক, নিরাপদ ও কার্যকর হয়ে উঠছে।

আগে সেপ্টিক ট্যাংক পরিষ্কার করার জন্য রায়পুরের বাসিন্দাদের পুরসভা কার্যালয়ে যেতে হতো। রায়পুর পুরসভা 'উপযোগ' (UPYOG) প্ল্যাটফর্মের ওপর ভিত্তি করে একটি ডিজিটাল ফিকাল স্লাজ ম্যানেজমেন্ট (FSM) ড্যাশবোর্ড চালু করেছে। এর মাধ্যমে গৃহস্থরা অনলাইনেই পরিষেবা বুক করতে, অর্থ প্রদান করতে এবং কাজের অগ্রগতি ট্র্যাক করতে পারছেন।

বাসিন্দারা মোবাইল নম্বর বা প্রপার্টি আইডি দিয়ে সরাসরি আবেদন জানাতে পারেন। আবেদন জানানোর পর রিয়েল-টাইমে ওয়ার্কের স্থিতি পর্যবেক্ষণ করা যায়। কাজ শেষের পর পরিচ্ছন্নতাকর্মীরা ছবি আপলোড করেন, যা পরিষেবার সত্যতা যাচাই করতে সাহায্য করে। এই প্রযুক্তি ঝুকিপূর্ণ ম্যানুয়াল কাজ কমিয়ে যান্ত্রিক পদ্ধতি চালুর মাধ্যমে পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের নিরাপত্তাও নিশ্চিত করছে।

তিরুবনন্তপুরমের আমায়িঝানচান খালের কিছু অংশ রেললাইনের নিচ দিয়ে গেছে, যেখানে জায়গা কম, তীব্র জলপ্রবাহ রয়েছে এবং কর্মীদের ঢোকার নিরাপদ পথ নেই। এই প্রতিকূল পরিবেশে বর্জ্য পরিষ্কার করতে তিরুবনন্তপুরম পুরসভা 'জি-স্পাইডার' (G-SPIDER) নামক একটি এআই-চালিত রোবট মোতায়েন করেছে।

জেনরোবোটিক ইনোভেশনস দ্বারা তৈরি এই রোবটটিতে রয়েছে সেন্সর এবং বিশেষ ধরনের চিমটে (biomimetic claw), যা জমে থাকা বর্জ্য চিহ্নিত ও সংগ্রহ করে সরাসরি গাড়িতে জমা করে। এটি কর্মীদের বিষাক্ত গ্যাস ও দূষিত জলের সংস্পর্শ থেকে রক্ষা করে এবং উচ্চ জলপ্রবাহের মধ্যেও কাজ চালাতে সক্ষম।

গুন্টুর, চেন্নাই এবং ইন্দোর শহরের বর্জ্য সংগ্রহ প্রক্রিয়ায় যুক্ত করা হয়েছে বৈদ্যুতিক গাড়ি (EV):

* *গুন্টুর:* বস্তুত, ২০০টিরও বেশি জিপিএস-যুক্ত ই-অটো বাড়ি বাড়ি বর্জ্য সংগ্রহে ব্যবহৃত হচ্ছে। এতে বছরে প্রায় ৭১,০০০ লিটার ডিজেল সাশ্রয় হচ্ছে।

* *চেন্নাই:* গ্রেটার চেন্নাই কর্পোরেশন ৫,৪৭৮টি ব্যাটারিচালিত ই-রিকশা চালু করেছে। এগুলো প্রতিদিন ভেজা, শুকনো ও বিপজ্জনক বর্জ্য পৃথকভাবে সংগ্রহ করে এবং দৈনিক প্রায় ৪১ টন কার্বন নির্গমন হ্রাস করে।

* *ইন্দোর:* শহরের কেন্দ্রস্থলে ১০০টি বৈদ্যুতিক গাড়ি নামানো হয়েছে, যেগুলি 'ইন্টিগ্রেটেড কমান্ড অ্যান্ড কন্ট্রোল সেন্টার'-এর মাধ্যমে মনিটর করা হয়। গাড়িগুলি চার্জ দেওয়ার জন্য ২০টি ১০ কিলোওয়াট ক্ষমতার সোলার চার্জিং স্টেশন স্থাপন করা হয়েছে, যা প্রতিদিন পরিবেশবান্ধব শক্তি উৎপাদন করে।

প্রযুক্তিকেন্দ্রিক শহরের পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখার কাজকে আরও দ্রুত ও নিরাপদ করে তুলছে। ডিজিটাল ড্যাশবোর্ড, কৃত্রিম বুদ্ধিসম্পন্ন রোবট এবং বৈদ্যুতিক পরিবহনের মাধ্যমে ভারতের পুরসভাগুলি প্রতিদিনের পরিচ্ছন্নতা অভিযানকে আধুনিক রূপ দিচ্ছে। পরবর্তী লক্ষ্য হল, এই ধরনের উদ্ভাবনগুলিকে আরও বেশি শহরে সম্প্রসারিত করে শহরের জীবনকে পরিচ্ছন্ন ও নিরাপদ করে তোলা।


Tags