অর্থনৈতিক সংস্কার ও ‘বিকশিত ভারত’-এর স্বপ্ন নিয়ে আইআইটি খড়গপুরে সঞ্জীব সান্যালের অনুপ্রেরণামূলক আলোচনা

সঞ্চিতা চ্যাটার্জি, বিএস নিউজ এজেন্সি: আইআইটি খড়গপুরের প্লাটিনাম জয়ন্তী উদ্‌যাপনের অংশ হিসেবে আয়োজিত হয় ‘দ্য আর্ট অব ডুইং ইকোনমিক রিফর্মস’ শীর্ষক একটি বিশেষ ইন্টারঅ্যাকটিভ সেশন। অনুষ্ঠানের প্রধান বক্তা ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর অর্থনৈতিক উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য এবং গোকলে ইনস্টিটিউট অব পলিটিক্স অ্যান্ড ইকোনমিক্স-এর চ্যান্সেলর শ্রী সঞ্জীব সান্যাল।

এই অনুষ্ঠানে ৪৫০-রও বেশি ছাত্রছাত্রী, প্রাক্তনী, শিল্পপতি, উদ্যোক্তা, শিক্ষক, গবেষক এবং উদ্ভাবক অংশগ্রহণ করেন। ‘বিকশিত ভারত @২০৪৭’-এর লক্ষ্য বাস্তবায়নে ভারতের অগ্রযাত্রা নিয়ে অনুষ্ঠিত এই আলোচনা ছিল অত্যন্ত প্রাণবন্ত ও তাৎপর্যপূর্ণ।


নিজের বক্তব্যে শ্রী সঞ্জীব সান্যাল বলেন, বড় নীতিগত বা কাঠামোগত সংস্কার যতটা গুরুত্বপূর্ণ, তার পাশাপাশি ছোট ছোট কিন্তু ধারাবাহিক ‘প্রক্রিয়াগত সংস্কার’ (Process Reforms) সমানভাবে পরিবর্তনের চালিকাশক্তি হতে পারে। প্রশাসনিক প্রক্রিয়া সহজ করা, অপ্রয়োজনীয় জটিলতা দূর করা, স্বচ্ছতা বৃদ্ধি এবং প্রযুক্তির যথাযথ ব্যবহার—এসবের মাধ্যমে সুশাসন, ব্যবসা পরিচালনার সহজতা এবং নাগরিক পরিষেবা উল্লেখযোগ্যভাবে উন্নত করা সম্ভব।


তিনি আরও বলেন, কার্যকর সংস্কার কেবল বড় নীতিগত পরিবর্তনের মাধ্যমে নয়; বরং প্রক্রিয়াগুলিকে সঠিকভাবে বিশ্লেষণ, সমস্যার জায়গাগুলি চিহ্নিত করা এবং ধাপে ধাপে বাস্তবসম্মত সমাধান প্রয়োগের মাধ্যমেই দীর্ঘমেয়াদি ইতিবাচক পরিবর্তন আনা যায়।

বাস্তব প্রশাসনিক অভিজ্ঞতার একাধিক উদাহরণ তুলে ধরে শ্রী সান্যাল দেখান, কীভাবে সুচিন্তিত প্রক্রিয়াগত সংস্কার কাজের সময় কমিয়েছে, দক্ষতা বাড়িয়েছে এবং বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের কার্যকারিতা আরও শক্তিশালী করেছে। তিনি বলেন, ডিজিটাল প্রযুক্তি অবশ্যই গুরুত্বপূর্ণ, তবে তা যেন সুপরিকল্পিত প্রশাসনিক প্রক্রিয়ার পরিপূরক হয়, বিকল্প নয়।

শ্রী সঞ্জীব সান্যাল বলেন,



“বিকশিত ভারত গড়ে তোলার পথে শুধু বড় বড় নীতিগত ঘোষণা নয়, বরং হাজার হাজার সুচিন্তিত প্রক্রিয়াগত সংস্কারই প্রশাসনকে আরও সহজ, দ্রুত, স্বচ্ছ ও নাগরিককেন্দ্রিক করে তুলবে। ধারাবাহিক ছোট ছোট উন্নতিই শেষ পর্যন্ত জাতীয় স্তরে বড় পরিবর্তনের ভিত্তি গড়ে তোলে।”

অনুষ্ঠানে অতিথিকে স্বাগত জানিয়ে আইআইটি খড়গপুরের পরিচালক প্রফেসর সুমন চক্রবর্তী বলেন, নীতি, প্রযুক্তি, উদ্ভাবন এবং সমাজের মধ্যে কার্যকর সংযোগ স্থাপনে উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলির ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

প্রফেসর সুমন চক্রবর্তী বলেন,

“বিকশিত ভারত-এর স্বপ্ন বাস্তবায়নের জন্য এমন প্রতিষ্ঠান প্রয়োজন, যারা জ্ঞান, প্রযুক্তি, সুশাসন ও উদ্ভাবনকে একসূত্রে গাঁথতে সক্ষম। আইআইটি খড়গপুরে আমরা বিশ্বাস করি, জাতীয় উন্নয়নের বাস্তবসম্মত সমাধান গড়ে তুলতে শিক্ষাঙ্গনকে নীতিনির্ধারক, শিল্পক্ষেত্র এবং সমাজের সঙ্গে সক্রিয়ভাবে কাজ করতে হবে। শ্রী সঞ্জীব সান্যালের সঙ্গে আজকের এই আলোচনা সেই অঙ্গীকারেরই প্রতিফলন।”

অনুষ্ঠানের শেষ পর্বে প্রফেসর সুমন চক্রবর্তী এবং শ্রী সঞ্জীব সান্যালের মধ্যে একটি প্রাণবন্ত ফায়ারসাইড আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে ভারতের ক্রমবিকাশমান উদ্ভাবন পরিবেশ, প্রশাসনিক সংস্কার, উচ্চশিক্ষা, গবেষণাভিত্তিক উদ্যোগ এবং ‘বিকশিত ভারত @২০৪৭’-এর লক্ষ্য পূরণে শিক্ষাঙ্গনের ভূমিকা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। উপস্থিত অংশগ্রহণকারীদের বিভিন্ন প্রশ্নোত্তরের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠানটি আরও সমৃদ্ধ হয়ে ওঠে।

এই কর্মসূচির মাধ্যমে আইআইটি খড়গপুর রিসার্চ পার্ক আবারও প্রমাণ করল যে, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, সরকার, শিল্পক্ষেত্র এবং সমাজের মধ্যে অর্থবহ সংলাপ গড়ে তোলার পাশাপাশি আগামী প্রজন্মের নেতৃত্ব ও উদ্ভাবনী চিন্তাকে উৎসাহিত করাই তাদের অন্যতম লক্ষ্য।



Tags