পুরভোটের আগে কলকাতায় লাফিয়ে বাড়ছে ওয়ার্ড, গায়েব হচ্ছে বহু হেভিওয়েটের আসন

ছবি বিভাস লোধ, বিএস নিউজ এজেন্সি।

সঞ্চিতা চ্যাটার্জি, বিএস নিউজ এজেন্সি: পুরসভার ভোটের আগে কলকাতার ওয়ার্ডগুলির একটা বড় পরিবর্তন হতে চলেছে। আসন্ন পুরভোটের আগেই হতে চলেছে ওয়ার্ড পুনর্বিন্যাস। এর ফলে কলকাতার পুরসভার ওয়ার্ড সংখ্যা ১৪৪ থেকে বেড়ে হচ্ছে ২০৯। ওয়ার্ড পুনর্বিন্যাসে গায়েব হয়ে যেতে পারে একাধিক হেভিওয়েটের ওয়ার্ড। মীনাদেবী পুরোহিত ও বিজয় ওঝায় ২২ ও ২৩ নম্বর ওয়ার্ড মিলিয়ে একটি ওয়ার্ড করা হতে পারে। বাড়ানো হচ্ছে পার্ক স্ট্রিট ও সেক্সপিয়র সরণী নিয়ে তৈরি ৬৩ নম্বর ওয়ার্ডের পরিধি। যাদবপুরের ৯৬ ও ৯৭ নম্বর ওয়ার্ডকে ২ ভাগে ভাঙা হচ্ছে।

কী কী বড় পরিবর্তন আসছে

বড় ওয়ার্ডগুলো ভেঙে ছোট করা হচ্ছে। যেসব ওয়ার্ডে ভোটারের সংখ্যা অত্যন্ত বেশি, সেগুলোকে একাধিক অংশে ভাগ করা হচ্ছে।
যেমন, রাজ্যের প্রাক্তন মন্ত্রী জাবেদ খানের এলাকা ৬৬ নম্বর ওয়ার্ড(তোপসিয়া অঞ্চল) যেখানে ৬৫-৬৬ হাজার ভোটার রয়েছে, সেটিকে প্রায় ৫টি ভাগে ভাগ করা হচ্ছে। ৭৭ নম্বর ওয়ার্ডকে ভেঙে ২টি ভাগ করা হচ্ছে। যাদবপুর এলাকার ৯৬ ও ৯৭ নম্বর ওয়ার্ডকেও পুনর্গঠন ও ভাগ করার পরিকল্পনা রয়েছে।

উত্তর কলকাতা বা অন্যান্য কিছু এলাকার যেখানে ভোটার সংখ্যা মাত্র ১ থেকে ২ হাজার, সেই ধরনের একাধিক ছোট ওয়ার্ডকে একসাথে জুড়ে একটি বড় ওয়ার্ডে পরিণত করা হতে পারে। সূত্রের খবর, ২২ ও ২৩ নম্বর ওয়ার্ড যুক্ত হয়ে যেতে পারে। ৭১ ও ৭৪ নম্বর ওয়ার্ডকে ছোট করা হলেও, ৬৩ নম্বর ওয়ার্ডের ভৌগোলিক পরিধি বাড়ানো হচ্ছে। 

প্রশাসনিক সুবিধা

প্রশাসনিক সূত্রের দাবি, বিশাল জনসংখ্যার ওয়ার্ডে পুরপরিষেবা পৌঁছাতে অসুবিধা হচ্ছিল। ওয়ার্ডের আকার ও ভোটার সংখ্যা সামঞ্জস্যপূর্ণ করলে নাগরিকেদের পুরপরিষেবা দেওয়া সহজ হবে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই ডিলিমিটেশনের পেছনে জনসংখ্যার সামঞ্জস্যের পাশাপাশি ধর্মীয় ও বয়সভিত্তিক ভোট ব্যাংকের বিন্যাসও একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। পুনর্বিন্যাসের কারণে অনেক হেভিওয়েট কাউন্সিলরের পুরানো ওয়ার্ডের অস্তিত্ব বিলুপ্ত হতে পারে অথবা একাধিক নতুন প্রতিনিধির জন্য টিকিট পাওয়ার ক্ষেত্র তৈরি হবে। কলকাতা পুরসভার আসন পুনর্নিবিন্যাসের পেছেন ভোটের রাজনীতি রয়েছে বলেও কোনও কোনও মহল থেকে গুঞ্জন উঠছে। তবে সরকার পক্ষের একাংশ বক্তব্য, ওয়ার্ড ছোট হলে কাজের সুবিধে হবে। তবে ১৪৪ থেকে বাড়িয়ে যেভাবে ওয়ার্ড সংখ্য়া ২০৯ করা হয়েছে তাতে ধর্মীয় একটি ফ্যাক্টর লক্ষ্য করা যাচ্ছে। পাশাপাশি ওয়ার্ডগুলিতে কী ধরনের বয়সসীমার মানুষ থাকেন তার উপরেও ভাগ করা হয়েছে। কিন্তু মানুষের কাজের সুবিধের জন্যই এই আসন ভাগ, এরকমই একটা ব্যাখ্যা সামনে দেওয়া হচ্ছে।
Tags