সঞ্চিতা চ্যাটার্জি, বিএস নিউজ এজেন্সি: ২৪ ঘণ্টা কাটতে না কাটতেই মোহভঙ্গ! এবার তৃণমূলের বিদ্রোহী বিধায়কদের একাংশের মধ্যেই ভিন্নসুর। যার ফলে বিপাকে পড়ল ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়-সন্দীপন সাহাদের 'নতুন তৃণমূল'। গতকাল, বুধবার বিধানসভার বিরোধী দলনেতা হয়ে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় সাংবাদিক বৈঠক করে বলেন, 'আমি একটা কথা স্পষ্ট ভাবে বলে দিতে চাই, আমাদের নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ই। আমরা চাই, উনিই আমাদের পরামর্শদাতা হোন। আমাদের পরিষদীয় দলকে পরামর্শ দিন। উনি থাকলে আমরা ভাল কাজ করতে পারব। অষ্টাদশ বিধানসভার সঙ্গে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের দূরদূরান্তে কোনও সম্পর্ক নেই।’ গতকাল, ঋতব্রতের এই বক্তব্যকে বিদ্রোহী বিধায়করা সমর্থন করলেও আজ, বৃহস্পতিবার উলটপুরাণ। ‘পরামর্শদাতা নয়, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ই আমাদের নেত্রী। ওনাকে নেত্রী হিসেবেই দেখতে চাই।’ এদিন এমনটাই জানিয়েছেন পাঁচলার তৃণমূল বিধায়ক গুলশন মল্লিক। তাঁর দাবি, ‘মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে নেত্রী হিসেবে না মানা হলে আমাদের অন্য চিন্তাভাবনা করতে হবে।’ গুলশনের বক্তব্যে এটা স্পষ্ট, তাঁরা বিরোধী দলনেতা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের মন্তব্যে ক্ষুব্ধ। বিদ্রোহ দেখিয়ে, তৃণমূল সুুপ্রিমোর নির্দেশ না মেনে নিজেদের মতো করে পরিষদীয় দল গঠন করেছেন ৫৮ জন বিধায়ক। কিন্তু তাঁদের নেত্রী মমতাই। তাঁর বাইরে কাউকে নেতা মানতে নারাজ। এদিন সেই বিষয়েও স্পষ্ট করে জানিয়ে দিয়েছেন গুলশন মল্লিক। সূত্রের খবর, এদিন এমএলএ হস্টেলে হাওড়ার বেশ কয়েকজন বিধায়ক বৈঠকে বসেছিলেন। তার মধ্যে ছিলেন পাঁচলার গুলশন মল্লিক, মধ্য হাওড়ার অরূপ রায়, বাগনানের অরুণাভ সেন, উদয়নারায়ণপুরের সমীর পাঁজা। সেখানেই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়, পরামর্শদাতা নয়, নেত্রী হিসেবে মমতাকেই চাই। তার অন্যথা হলে আলাদা চিন্তাভাবনা করবেন বলেও ইঙ্গিত দিয়েছেন বিদ্রোহী বিধায়কদের একাংশ। এই একই বক্তব্য রেখেছেন সিতাইয়ের তৃণমূল বিধায়ক সঙ্গীত রায় বসুনিয়াও।
আর এইভাবে ‘নতুন তৃণমূল’-এর যাত্রা শুরু হওয়ার মুখেই হোঁচট খেতে দেখে নানা জল্পনা শুরু হয়েছে রাজ্যের রাজনৈতিক মহলে।