সঞ্চিতা চ্যাটার্জি। বিএস নিউজ এজেন্সি: ভারতীয় মুদ্রা (Rupee) বাজারে গত এক দশকের মধ্যে সবথেকে বড় ভূমিকম্প! রিজার্ভ ব্যাঙ্ক অফ ইন্ডিয়ার (RBI) এক কড়া নির্দেশে কার্যত থমকে গিয়েছে বিদেশি মুদ্রা লেনদেনের বাজার। কেন্দ্রীয় ব্যাঙ্কের ফরমান—ব্যাঙ্কগুলোকে দ্রুত গুটিয়ে ফেলতে হবে বিপুল পরিমাণ 'আর্বিট্রাজ ট্রেড'। যার জেরে সোমবার লেনদেন শুরু হতেই ডলারের (USD to INR) বিপরীতে রেকর্ড পতন হয়েছে ভারতীয় রুপির। বাজার সূত্রে খবর, ব্যাঙ্কগুলি প্রায় ৩০ বিলিয়ন ডলার (বা তারও বেশি) মূল্যের আর্বিট্রাজ ট্রেড বা মুদ্রার দামের পার্থক্যের ওপর ভিত্তি করে মুনাফা করার লেনদেনে লিপ্ত ছিল। টাকার পতনের উপর বাজি ধরা নিয়ন্ত্রণ করতেই RBI এই কড়া পদক্ষেপ নিয়েছে। কেন্দ্রীয় ব্যাঙ্কের নির্দেশে ইতিমধ্যেই ৪ থেকে ১০ বিলিয়ন ডলারের ট্রেড বন্ধ করতে হুড়োহুড়ি পড়ে গিয়েছে ব্যাঙ্কগুলোর মধ্যে।
রেকর্ড পতন: ১০০-র দিকে কি এগোচ্ছে টাকা?
সোমবার বাজার খুলতেই দেখা যায় চরম তারল্যের ঘাটতি। ডলারের বিপরীতে টাকার দাম হুড়মুড়িয়ে নেমে যায় ৯৪.৮০-এর স্তরে। ২০১৩ সালের পর মুদ্রাবাজারে এমন টালমাটাল পরিস্থিতি আর দেখা যায়নি। বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করছেন, এই অস্থিরতা দীর্ঘস্থায়ী হলে ডলার প্রতি রুপির দাম ১০০ ছুঁয়ে ফেলা এখন স্রেফ সময়ের অপেক্ষা।
বিপাকে পড়ার ৩টি প্রধান কারণ:
• RBI-র ১০ এপ্রিলের ডেডলাইন: ব্যাঙ্কগুলোকে আগামী ১০ এপ্রিলের মধ্যে সমস্ত নির্দিষ্ট ট্রেড বন্ধ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সময়সীমা বাড়ানোর আবেদন জানানো হলেও RBI এখনও অনড়।
• বিশ্ববাজারে তেলের দাম: পশ্চিম এশিয়ার যুদ্ধ পরিস্থিতির জেরে অপরিশোধিত তেলের দাম চড়ছে। আমদানির ওপর নির্ভরশীল ভারতের ওপর এর চাপ পড়ছে মারাত্মক।
• বিদেশি বিনিয়োগের টানাপোড়েন: আন্তর্জাতিক বাজারে ডলার শক্তিশালী হওয়ায় বিদেশি লগ্নিকারীরা ভারত থেকে পুঁজি সরাচ্ছেন।
সাধারণ মানুষের ওপর কী প্রভাব পড়বে?
টাকার এই রেকর্ড পতনের সরাসরি প্রভাব পড়বে আপনার পকেটে: ১. আমদানিকৃত পণ্যের দাম বৃদ্ধি: ল্যাপটপ, মোবাইল ও ইলেকট্রনিক্স সরঞ্জামের দাম বাড়তে পারে। ২. জ্বালানি ও ভোজ্য তেল: ডলারের দাম বাড়লে তেল আমদানির খরচ বাড়বে, ফলে দেশে পেট্রোল-ডিজেল ও ভোজ্য তেলের দাম বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে। ৩. বিদেশে পড়াশোনা ও ভ্রমণ: যারা বিদেশে পড়াশোনা করছেন বা ঘুরতে যাওয়ার পরিকল্পনা করছেন, তাঁদের খরচ এক ধাক্কায় অনেকটা বেড়ে যাবে।
রিজার্ভ ব্যাঙ্কের এই পদক্ষেপ দীর্ঘমেয়াদে রুপির স্থিতিশীলতা আনার চেষ্টা হলেও, স্বল্পমেয়াদে তা বাজারে তীব্র আতঙ্ক তৈরি করেছে। ১০ এপ্রিলের মধ্যে ব্যাঙ্কগুলো এই বিপুল পরিমাণ ডলারের লেনদেন কীভাবে সামাল দেয়, তার ওপরই নির্ভর করছে ভারতীয় মুদ্রার ভবিষ্যৎ।