শ্রীমতি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কর্তৃক নির্বাচনী ইশতেহার প্রকাশ। ছবি সঞ্চিতা চট্টোপাধ্যায়/BS News Agency।
সঞ্চিতা চট্টোপাধ্যায়, BS News Agency: বাংলার জন্য আমার ১০টি ‘প্রতিজ্ঞা’ আমি সশ্রদ্ধ চিত্তে আপনাদের সামনে তুলে ধরছি, যাতে আমার সরকারের চতুর্থ মেয়াদেও উন্নয়নের চাকা নিরবচ্ছিন্নভাবে এগিয়ে চলে।
‘লক্ষ্মীর ভাণ্ডার’ প্রকল্পের আওতায়, মাসিক ৫০০ টাকা বৃদ্ধির ফলে, সাধারণ বর্গের উপভোক্তারা মাসিক ১,৫০০ টাকা (বার্ষিক ১৮,০০০ টাকা) এবং তপশিলি জাতি ও উপজাতি (SC/ST) বর্গের উপভোক্তারা মাসিক ১,৭০০ টাকা (বার্ষিক ২০,৪০০ টাকা) আর্থিক সহায়তা পেতে থাকবেন।
ছবি সঞ্চিতা চট্টোপাধ্যায়/BS News Agency।
আমি ‘বাংলার যুব-সাথী’ প্রকল্প অব্যাহত রাখব এবং এর মাধ্যমে বেকার যুবকদের মাসিক ১,৫০০ টাকা (বার্ষিক ১৮,০০০ টাকা) আর্থিক সহায়তা প্রদান করে যাব।
আমি আরও প্রতিশ্রুতি দিচ্ছি যে, কৃষিজীবী পরিবারগুলিকে নিরবচ্ছিন্ন সহায়তা প্রদান, ভূমিহীন কৃষকদের পাশে দাঁড়ানো এবং কৃষি ক্ষেত্রের সামগ্রিক উন্নয়নের লক্ষ্যে আমি ৩০,০০০ কোটি টাকার একটি ‘কৃষি বাজেট’ প্রবর্তন করব।
আমি প্রতিশ্রুতি দিচ্ছি যে, বাংলার প্রতিটি পরিবারের নিজস্ব একটি পাকা বাড়ি থাকবে এবং প্রতিটি বাড়িতেই পাইপলাইনের মাধ্যমে পানীয় জল সরবরাহের ব্যবস্থা থাকবে।
এছাড়াও, স্বাস্থ্যসেবা যাতে মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে দেওয়া যায়—তা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে আমার সরকার প্রতিটি ব্লক ও শহরে প্রতি বছর ‘দুয়ারে চিকিৎসা’ শিবিরের আয়োজন করবে।
‘বাংলার শিক্ষায়তন’ প্রকল্পের আওতায় আমি রাজ্যের সমস্ত সরকারি বিদ্যালয়ের পরিকাঠামোর সামগ্রিক আধুনিকীকরণ ও উন্নয়ন নিশ্চিত করব।
বিশ্বমানের লজিস্টিক ব্যবস্থা, বন্দর, বাণিজ্য পরিকাঠামো এবং একটি অত্যাধুনিক ‘গ্লোবাল ট্রেড সেন্টার’ গড়ে তোলার মাধ্যমে বাংলাকে পূর্ব ভারতের বাণিজ্যের প্রবেশদ্বার হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে আমি কাজ করে যাব।
বর্তমানে যাঁরা বার্ধক্যভাতা পাচ্ছেন, তাঁদের জন্য এই সহায়তা যাতে নিরবচ্ছিন্ন থাকে—তা নিশ্চিত করতে আমি সচেষ্ট থাকব; পাশাপাশি, ধাপে ধাপে এই সামাজিক সুরক্ষাবলয়ের আওতায় সমস্ত যোগ্য প্রবীণ নাগরিককে নিয়ে আসার উদ্যোগ গ্রহণ করব।
আমি আরও প্রতিশ্রুতি দিচ্ছি যে, একটি সুসংহত ভৌগোলিক পুনর্গঠন প্রক্রিয়ার মাধ্যমে আমি সাতটি নতুন জেলা গঠন করব এবং শহুরে স্থানীয় সংস্থাগুলির (Urban Local Bodies) সংখ্যা বৃদ্ধি করব।
এই ১০টি ‘প্রতিজ্ঞা’-ই হবে আমার শাসনব্যবস্থার মূল ভিত্তি এবং আগামী পাঁচ বছরের জন্য আমার সরকারের কর্মপন্থা বা ‘রোডম্যাপ’ হিসেবে কাজ করবে।