মেট্রো রেল: সুস্থায়ী নগর উন্নয়ন।

সঞ্চিতা চ্যাটার্জি, বিএস নিউজ এজেন্সি, পিআইবি: * ভারতের মেট্রো নেটওয়ার্ক ২০১৪ সালের ২৪৮ কিমি থেকে বৃদ্ধি পেয়ে ২০২৫ সালে ১,০৯৫ কিমিতে পৌঁছেছে।

 * মেট্রো পরিষেবা ২০১৪ সালের মাত্র পাঁচটি শহর থেকে ২০২৫ সালে ২৬টি শহরে বিস্তৃত হয়েছে।

 * বার্ষিক মেট্রো বাজেট ২০১৩-১৪ সালের ৫,৭৯৮ কোটি টাকা থেকে বৃদ্ধি পেয়ে ২০২৫-২৬ সালে ২৯,৫৫০ কোটি টাকা হয়েছে।
গত এক দশকে ভারতের মেট্রো রেল নেটওয়ার্ক

 উল্লেখযোগ্যভাবে প্রসারিত হয়েছে, যা ২০টিরও বেশি শহরে পৌঁছে গিয়েছে। এই পরিষেবা যানজট কমিয়ে দ্রুত, পরিচ্ছন্ন এবং নির্ভরযোগ্য পরিবহনের মাধ্যমে নগর চলাচলের (urban mobility) উন্নতি ঘটিয়েছে। মেট্রো ব্যবস্থা ব্যক্তিগত যানবাহনের ওপর নির্ভরতা কমিয়ে, পরিবহন খরচ হ্রাস করে এবং কর্মসংস্থান, শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবার সহজলভ্যতা বৃদ্ধি করে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিতে অবদান রাখছে।

ভারতে মেট্রো রেলের প্রসার, পরিধি ও ব্যাপ্তি

ভারতের মেট্রো নেটওয়ার্ক বিশ্বব্যাপী অন্যতম বৃহৎ নেটওয়ার্কে পরিণত হয়েছে, যা পরিকাঠামোগত প্রসারণের সাথে প্রযুক্তিগত উদ্ভাবনের সমন্বয় ঘটিয়েছে।

 * দিল্লি-মিরাট RRTS করিডোর-সহ বর্তমানে ২৬টি শহরে ১,০৯৫ কিমি মেট্রো নেটওয়ার্ক সচল রয়েছে।

 * দিল্লি-এনসিআর, মুম্বই, বেঙ্গালুরু, কলকাতা, হায়দ্রাবাদ, চেন্নাই, লক্ষ্ণৌ, পুনে এবং আহমেদাবাদের মতো প্রধান শহরগুলোতে মেট্রো পরিষেবা চালু আছে।

 * ২০১৪ সাল থেকে নেটওয়ার্কটি ২৪৮ কিমি থেকে ১,০৯৫ কিমি পর্যন্ত প্রসারিত হয়েছে, যা দ্রুত পরিকাঠামোগত প্রবৃদ্ধির প্রতিফলন।

 * সরকার ৩.৪৪ লক্ষ কোটি টাকা আনুমানিক ব্যয়ে ১,০৫১ কিমি দীর্ঘ ৩৮টি মেট্রো প্রকল্প অনুমোদন করেছে, যা দেশব্যাপী যোগাযোগ ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করবে।

অর্জন এবং উদ্ভাবন

 * নমো ভারত ট্রেন: ২০২৩ সালের অক্টোবরে ভারত দিল্লি-মিরাট করিডোরে প্রথম সেমি হাই-স্পিড 'নমো ভারত' আঞ্চলিক ট্রেন চালু করে। ১৬০ কিমি/ঘণ্টা গতির এই ট্রেন আঞ্চলিক সংযোগে এক নতুন যুগের সূচনা করেছে।

 * আন্ডারওয়াটার মেট্রো: ভারত ২০২৪ সালে কলকাতায় হুগলি নদীর তলদেশ দিয়ে এসপ্ল্যানেড এবং হাওড়া ময়দানের মধ্যে প্রথম আন্ডারওয়াটার মেট্রো টানেল চালু করে উন্নত প্রকৌশল ক্ষমতার পরিচয় দিয়েছে।

 * ওয়াটার মেট্রো: ২০২৩ সালের এপ্রিলে কোচি ভারতের প্রথম 'ওয়াটার মেট্রো' চালু করে, যা বৈদ্যুতিক-মিশ্র নৌকার মাধ্যমে ১০টি দ্বীপকে যুক্ত করেছে এবং পরিবেশবান্ধব নগর পরিবহনকে উৎসাহিত করছে।

মেট্রো: নিরাপদ, দ্রুত এবং স্মার্ট সমাধান

ভারতের মেট্রো ব্যবস্থায় সুরক্ষা, দক্ষতা এবং স্থায়িত্ব বাড়াতে উন্নত প্রযুক্তি ব্যবহার করা হচ্ছে:

 * ইউরোপীয় ট্রেন কন্ট্রোল সিস্টেম (ETCS): দিল্লি-মিরাট RRTS করিডোরে নমো ভারত ট্রেনের জন্য হাইব্রিড লেভেল-III সিগন্যালিং।

 * প্ল্যাটফর্ম স্ক্রিন ডোরস (PSD): যাত্রী নিরাপত্তা বাড়াতে BEL এবং NCRTC কর্তৃক উদ্ভাবিত।

 * ন্যাশনাল কমন মোবিলিটি কার্ড (NCMC): "এক দেশ-এক কার্ড" ধারণার অধীনে মেট্রো এবং বাস ব্যবস্থায় নিরবচ্ছিন্ন ভ্রমণের সুবিধা।

 * QR টিকেটিং: সুবিধাজনক ভ্রমণের জন্য মোবাইল-ভিত্তিক ডিজিটাল টিকেটিং।

 * চালকমুক্ত ট্রেন অপারেশন (UTO): দিল্লি মেট্রোর পিঙ্ক এবং ম্যাজেন্টা লাইনে চালকবিহীন ট্রেন।

 * স্বদেশী ATS (i-ATS): দিল্লি মেট্রোর রেড লাইনে ভারতের নিজস্ব প্রযুক্তিতে তৈরি ট্রেন সুপারভিশন সিস্টেম।

 * জ্বালানি দক্ষতা: শক্তি খরচ এবং নির্গমন কমাতে 'রিজেনারেটিভ ব্রেকিং' এবং সোলার প্যানেলের ব্যবহার।

পরিকাঠামো ব্যয় এবং জাতীয় পরিকল্পনার সাথে একীকরণ

 * ২০২৪-২৫ সালের কেন্দ্রীয় বাজেটে মূলধনী ব্যয়ের জন্য ১১.২১ লক্ষ কোটি টাকা (জিডিপির ৩.১%) বরাদ্দ করা হয়েছে।

 * মেট্রো বাজেট ২০১৩-১৪ সালের ৫,৭৯৮ কোটি টাকা থেকে বেড়ে ২০২৫-২৬ সালে ২৯,৫৫০ কোটি টাকা হয়েছে।

 * মেট্রো প্রকল্পগুলিকে পিএম গতিশক্তি জাতীয় মাস্টার প্ল্যান-এর সাথে সুসংবদ্ধ করা হয়েছে এবং মাল্টিমোডাল সংযোগ নিশ্চিত করতে 'নেটওয়ার্ক প্ল্যানিং গ্রুপ' (NPG) দ্বারা পর্যালোচনা করা হয়।

শহুরে পরিবারগুলিতে মেট্রো রেলের প্রভাব (PMEAC রিপোর্ট)

প্রধানমন্ত্রীর অর্থনৈতিক উপদেষ্টা পরিষদ (EAC-PM)-এর ২০২৬ সালের জানুয়ারির একটি গবেষণা মেট্রো প্রসারণের ব্যাপক অর্থনৈতিক সুবিধা তুলে ধরেছে:

 * মেট্রো সংযোগ পরিবহন খরচ কমায়, যা ঋণের কিস্তি পরিশোধের ক্ষমতা এবং আর্থিক স্থিতিশীলতা বৃদ্ধি করে।

   * হায়দ্রাবাদ: হোম লোনের কিস্তি মিস করার হার ১.৭% কমেছে।

   * বেঙ্গালুরু: ঋণ পরিশোধে বিলম্ব ২.৪% হ্রাস পেয়েছে।

   * দিল্লি: বকেয়া পেমেন্ট ৪.৪২% কমেছে।

 * মেট্রো সংযোগ টু-হুইলার এবং এন্ট্রি-লেভেল গাড়ির ওপর নির্ভরতা কমায়, যা পরিবারের পরিবহন খরচ এবং ঋণের বোঝা হ্রাস করে।


Tags