রেকর্ড সংখ্যক ৮৫ লক্ষ তীর্থযাত্রীর সমাগম; রূপান্তরকামী সাধুদের নতুন আখড়া সকলের দৃষ্টি কেড়েছে।

কপিল মুনি মন্দিরে তীর্থযাত্রীরা। ছবি সঞ্চিতা চ্যাটার্জি/বিএস নিউজ এজেন্সি।

সঞ্চিতা চ্যাটার্জি, বিএস নিউজ এজেন্সি: মকর সংক্রান্তির পুণ্যলগ্নে সাগরদ্বীপ ভক্তদের ভিড়ে প্লাবিত হয়েছিল। এবারের গঙ্গাসাগর মেলা এক ঐতিহাসিক মুহূর্তের সাক্ষী থাকল। এই প্রথমবার রূপান্তরকামী সাধুরা মেলায় নিজেদের একটি স্বতন্ত্র আখড়া (মঠ) পেলেন। মেলার প্রাঙ্গণ ৮৫ লক্ষ তীর্থযাত্রীর উপস্থিতিতে মুখরিত থাকলেও, রূপান্তরকামী সাধুদের ঘিরে ভক্তদের উৎসাহ ছিল বিশেষভাবে চোখে পড়ার মতো।
দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, মকর সংক্রান্তির দিন বিকেল ৩টা পর্যন্ত তীর্থযাত্রীর সংখ্যা ৮৫ লক্ষ ছাড়িয়ে গেছে। প্রশাসনের অনুমান, বুধবার রাতের মধ্যে এই সংখ্যা ১ কোটি ছাড়িয়ে যাবে। যেহেতু পুণ্যস্নানের শুভক্ষণ বৃহস্পতিবার দুপুর ১টা ১৯ মিনিট পর্যন্ত বিস্তৃত, তাই দিন বাড়ার সাথে সাথে ভিড়ও আনুপাতিক হারে বাড়ছে।
মকর সংক্রান্তির তীর্থযাত্রীরা বঙ্গোপসাগরে স্নান করছেন। ছবি সঞ্চিতা চ্যাটার্জি/বিএস নিউজ এজেন্সি।
রাজ্যের মন্ত্রী অরূপ বিশ্বাস মেলার ব্যবস্থাপনা নিয়ে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন। তিনি বলেন, "অন্যান্য রাজ্যের তীর্থযাত্রীরাও আমাদের আতিথেয়তায় খুশি। পানীয় জল থেকে শুরু করে বাসস্থান পর্যন্ত কোনো কিছুতেই যাতে কোনো ঘাটতি না থাকে, আমরা তা নিশ্চিত করেছি। প্রায় ১৫০টি স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা এবং ১০,০০০ কর্মী দিনরাত পরিষেবা দিচ্ছেন।"
গত বছরের মতো এবারও নাগা সাধু এবং এলইডি আলোয় সজ্জিত 'লাইট বাবা'-র উপস্থিতি সকলের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে। তবে আকর্ষণের কেন্দ্রবিন্দুতে ছিলেন জুনা আখড়ার ১২ জন রূপান্তরকামী সাধু। যদিও তাঁরা এর আগে ব্যক্তিগতভাবে মেলায় এসেছিলেন, কিন্তু এই প্রথমবার অন্যান্য সাধুদের সহযোগিতায় তাঁরা একটি প্রাতিষ্ঠানিক আখড়া পেলেন। তাঁদের দেখার জন্য ভক্তদের ভিড় ছিল উপচে পড়া। অন্যদিকে, নাগা সাধুরা প্রশাসনের কাছে ভাতা এবং বিদ্যুৎ ও পানীয় জলের সঠিক ব্যবস্থার দাবি জানিয়েছেন। গঙ্গাসাগর মেলায় নজিরবিহীন নিরাপত্তা ব্যবস্থার কারণে লক্ষ লক্ষ তীর্থযাত্রী স্বাচ্ছন্দ্যে পুণ্যস্নান করছেন। পুলিশ, এনডিআরএফ এবং স্বেচ্ছাসেবকদের প্রচেষ্টার ফলে একটি নিরাপদ ও সুশৃঙ্খল পরিবেশে মেলাটি সুষ্ঠুভাবে চলছে।
Tags