রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু সুমন সরকারকে প্রধানমন্ত্রী রাষ্ট্রীয় বাল পুরস্কার প্রদান করছেন। ছবি পিআইবি/বিএস নিউজ এজেন্সি।
পিআইবি/বিএস নিউজ এজেন্সি, নতুন দিল্লি, ২৬ ডিসেম্বর ২০২৫: ষোলো বছর বয়সী তবলা বাদক সুমন সরকার শিল্প ও সংস্কৃতি ক্ষেত্রে তার অসাধারণ কৃতিত্ব এবং সঙ্গীত শিক্ষার মাধ্যমে সমাজসেবার প্রতি তার অঙ্গীকারের স্বীকৃতিস্বরূপ মর্যাদাপূর্ণ প্রধানমন্ত্রী রাষ্ট্রীয় বাল পুরস্কারের জন্য নির্বাচিত হয়েছেন।
সুমন সরকার ১৩ বছরেরও বেশি সময় ধরে তবলার উপর কঠোর প্রশিক্ষণ নিচ্ছেন এবং ইতিমধ্যেই দেশীয় ও আন্তর্জাতিক বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ মঞ্চে ৬২টিরও বেশি পরিবেশনা করেছেন। তার প্রতিভা ও শৃঙ্খলার জন্য তিনি ২২টি প্রথম পুরস্কারসহ ৪৩টি জাতীয় ও আন্তর্জাতিক সনদ অর্জন করেছেন। তার উল্লেখযোগ্য কৃতিত্বের মধ্যে রয়েছে ছন্দাবন (মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র), ইন্দো-বাংলাদেশ সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতা, ডোভার লেন মিউজিক কনফারেন্স এবং জাতীয় কলা উৎসবের মতো স্বনামধন্য ফোরামে পুরস্কার লাভ, যেখানে তিনি স্বর্ণপদক পেয়েছেন।
ব্যক্তিগত শ্রেষ্ঠত্বের বাইরেও সুমন সামাজিক দায়বদ্ধতার এক দৃঢ় পরিচয় দিয়েছেন। তিনি তার পুরস্কারের অর্থ দিয়ে সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের জন্য তবলা কিনেছেন এবং তাদের বিনামূল্যে প্রশিক্ষণ দেন, যাতে আর্থিক সীমাবদ্ধতা ধ্রুপদী সঙ্গীত শিক্ষার পথে বাধা না হয়। এই প্রচেষ্টাকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিতে তিনি নদীয়ার রানাঘাটে 'রানাঘাট হিউম্যানিটিজ এডুকেশন সেন্টার' প্রতিষ্ঠা করেন, যা বর্তমানে ৪২ জন শিক্ষার্থীকে উপকৃত করছে এবং তৃণমূল পর্যায়ে তরুণ প্রতিভা লালন ও সাংস্কৃতিক অন্তর্ভুক্তিমূলক পরিবেশ তৈরিতে সহায়তা করছে।
ভারতের সমৃদ্ধ সঙ্গীত ঐতিহ্য সংরক্ষণ ও প্রসারের পাশাপাশি শিক্ষার মাধ্যমে সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের ক্ষমতায়নের প্রতি সুমনের এই নিষ্ঠা ব্যাপক প্রশংসা কুড়িয়েছে। তার এই অবদানের জন্য তিনি ভারতরত্ন ডঃ এম. এস. সুব্বুলক্ষ্মী ফেলোশিপসহ বেশ কয়েকটি সম্মাননা পেয়েছেন, যা একজন শিল্পী এবং পরামর্শদাতা হিসেবে তার প্রভাবকে আরও জোরালোভাবে তুলে ধরে।
প্রধানমন্ত্রী রাষ্ট্রীয় বাল পুরস্কার হলো ভারতের শিশুদের জন্য সর্বোচ্চ বেসামরিক সম্মাননা, যা বিভিন্ন ক্ষেত্রে তরুণদের অসাধারণ কৃতিত্বকে স্বীকৃতি দেয়। এই পুরস্কারের জন্য সুমন সরকারের নির্বাচন কেবল তার অসামান্য শৈল্পিক অর্জনকেই তুলে ধরে না, বরং সেবা, শৃঙ্খলা এবং সাংস্কৃতিক সমৃদ্ধির প্রতি তার অনুকরণীয় অঙ্গীকারকেও তুলে ধরে।
তার এই যাত্রা একটি অনুপ্রেরণাদায়ক উদাহরণ স্থাপন করে যে, কীভাবে তরুণ প্রতিভা নিষ্ঠা এবং সামাজিক সচেতনতার দ্বারা পরিচালিত হয়ে জাতির সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যে অর্থপূর্ণ অবদান রাখতে পারে।