ভারতীয় মহিলা ক্রিকেটার রিচা ঘোষ কলকাতার ইডেন গার্ডেনে ক্রিকেট অ্যাসোসিয়েশন অফ বেঙ্গল (সিএবি) সভাপতি সৌরভ গাঙ্গুলি এবং ঝুলন গোস্বামীর সাথে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে সংবর্ধনা জানান। ছবি: সঞ্চিতা চ্যাটার্জি/বিএসনিউজএজেন্সি।
সাগর, বিএস নিউজ এজেন্সি কলকাতা: বিশ্বকাপ জিতে বাংলাতে ফিরে বঙ্গভূষণ রিচা বাংলার মেয়ে, বাংলার গর্ব — রিচা ঘোষ! শিলিগুড়ির এক ছোট শহর থেকে উঠে এসে আজ ভারতীয় ক্রিকেটের উজ্জ্বল নক্ষত্র। ছোটবেলা থেকেই তাঁর স্বপ্ন ছিল বড় — একদিন ভারতের জার্সি গায়ে দেশের জন্য খেলবেন। বাবা-মায়ের অবিরাম সহায়তা, নিজের কঠোর পরিশ্রম এবং ক্রিকেটের প্রতি অগাধ ভালোবাসা রিচাকে এনে দেয় জাতীয় দলে সুযোগ। মাত্র ১৬ বছর বয়সে ভারতীয় মহিলা দলে নির্বাচিত হয়ে তিনি জানিয়ে দেন, বাংলা থেকেও বিশ্বজয় সম্ভব।
দলে ঢোকার পর থেকেই একের পর এক অনবদ্য ইনিংস খেলে নিজেকে প্রমাণ করেছেন রিচা। তাঁর ব্যাটিংয়ে আছে আগ্রাসন, আত্মবিশ্বাস আর নিখুঁত শট সিলেকশন। চাপের মুহূর্তে ম্যাচ ঘুরিয়ে দেওয়ার ক্ষমতা তাঁকে দলের অন্যতম ভরসাযোগ্য খেলোয়াড় করে তুলেছে।
২০২৫ সালের মহিলা ক্রিকেট বিশ্বকাপ ছিল রিচার ক্যারিয়ারের সবচেয়ে গৌরবময় অধ্যায়। সেমিফাইনালে প্রতিদ্বন্দ্বী ছিল অস্ট্রেলিয়া — বিশ্বের সবচেয়ে শক্তিশালী দল। ভারত যখন বিপাকে, তখন রিচার ব্যাট থেকে আসে গুরুত্বপূর্ণ কিছু রান। জেমিমা এবং রিচার ইনিংসেই ভারত হারায় অস্ট্রেলিয়াকে, পৌঁছে যায় বহু প্রতীক্ষিত ফাইনালে।
ফাইনালে প্রতিপক্ষ ছিল সাউথ আফ্রিকা। আবারও দল বিপদে, কিন্তু ভয় কিসের বাংলার মেয়ে রিচা ঘোষ তো রয়েছে। ফাইনালের মঞ্চেও রিচা দেখালেন নিজের জেদ আর জ্বলন্ত প্রতিজ্ঞা। যা এনে দিল ভারতের মেয়েদের হাতে বহু প্রতীক্ষিত বিশ্বকাপের ট্রফি!
বিশ্বকাপের মঞ্চে ইতিহাস লেখার পর বাংলাতে ফিরে একের পর এক সম্মান- ভক্তদের ভালোবাসায় মুগ্ধ রিচা। ক্রিকেট অ্যাসোসিয়েশন অফ বেঙ্গল (CAB ) এর পক্ষ থেকেও সম্মানিত করা হলো রিচাকে। পেলেন সোনার ব্যাট এবং সরকারের তরফ থেকে পুলিশের চাকরি। সব থেকে বড় পাওনা বঙ্গ ভূষণ সম্মান। রিচা ঘোষ আজ শুধু বাংলার নয়, গোটা দেশের গর্ব। তাঁর পরিশ্রম, লড়াই আর সাফল্য প্রতিটি মেয়েকে শেখায় — স্বপ্ন যদি সত্যি করতে চাও, তবে কোনো বাধাই তোমাকে থামাতে পারবে না।