কন্যাশ্রী উদযাপন
কন্যাশ্রী প্রকল্পের ১২তম জন্মদিন উপলক্ষে মুখ্যমন্ত্রী প্রদীপ প্রজ্জ্বলনের মাধ্যমে অনুষ্ঠানের উদ্বোধন হয়। ছবি বিএস নিউজ এজেন্সি।
সঞ্চিতা
চ্যাটার্জী, বিএস নিউজ এজেন্সি, কলকাতা: ২০১৩ সালে মাননীয়া মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দোপাধ্যায়ের ঐকান্তিক উদ্যোগে "কন্যাশ্রী প্রকল্প" র সূত্রপাত। পশ্চিমবঙ্গ সরকারের এ এক অন্যতম প্রধান প্রকল্প। রাজ্যের কিশোরী মেয়েদের জীবনকে কন্যাশ্রী প্রকল্প এক নতুন মাত্রা দিয়েছে। এই প্রকল্প ইতিমধ্যেই ৯৩ লক্ষেরও বেশি কন্যাকে উচ্চশিক্ষা ও পেশাগত স্বপ্ন পূরণের পথে আত্মবিশ্বাসী ও স্বনির্ভর হতে অনুপ্রাণিত করেছে।
প্রতি বছরের মতো এবারেও আগামী ১৪ আগস্ট ২০২৫ তারিখে কলকাতা ও সমস্ত জেলায় "কন্যাশ্রী দিবস" উদযাপিত হবে। এ বছরের থিম "Career Awareness", কিশোরীদের career
নির্বাচনের বিষয়ে সচেতন করা ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার গুরুত্ব কে বোঝানো।
এছাড়াও অনুষ্ঠানে সম্মানীয় মন্ত্রীরা, বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ ও উচ্চ পদস্থ আধিকারিকগণ উপস্থিত। দর্শক হিসেবে উপস্থিত কলকাতার বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের কন্যাশ্রী মেয়েরা।
অনুষ্ঠান শুরু মাননীয়া মুখ্যমন্ত্রীর লেখা ও সুরারোপিত 'কন্যাশ্রী' থিম-সং দিয়ে। এটি পরিবেশন করে কলকাতার চারটি বিদ্যালয় AIWC বুনিয়াদি বিদ্যাপীঠ, কমলা গার্লস স্কুল, বিনোদিনী গার্লস হাই স্কুল এবং লেক স্কুল ফর গার্লস।
প্রদীপ প্রজ্জ্বলনের মাধ্যমে অনুষ্ঠানের উদ্বোধন হয়।
কন্যাশ্রী প্রকল্পের ১২তম জন্মদিন উপলক্ষে মঞ্চে প্রতীকী 'সন্দেশ-মুখ্যমন্ত্রী কেক কেটে উদ্বোধন করলেন।
এই দিন কন্যাশ্রী প্রকল্পের ২০২৪-২৫ সালের বার্ষিক প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়, যেখানে সব জেলার গত বছরের সাফল্য ও অগ্রগতির চিত্র তুলে ধরা হয়।। তাছাড়া career planning বিষয়ক একটি প্রচারপত্র ও বুকলেট উন্মোচন করা হয়।
কন্যাশ্রী দিবসে পুরস্কৃত হয় -
পশ্চিমবঙ্গের সেরা ৫টি জেলা বাঁকুড়া, পূর্ব বর্ধমান, পশ্চিম বর্ধমান, ঝাড়গ্রাম ও উত্তর দিনাজপুর – ২০২৪-২৫ বর্ষে যারা কন্যাশ্রী প্রকল্পের সফল বাস্তবায়ন করেছে।
কলকাতার তিনটি সেরা স্কুল ও তিনটি সেরা কলেজ, যারা ২০২৪-২৫ বর্ষে কন্যাশ্রী প্রকল্প কে সফল ভাবে বাস্তবায়িত করেছে। স্কুলগুলি হল বরিশা গার্লস হাই স্কুল, বেহালা সারদা বিদ্যাপীঠ ফর গার্লস, উচ্চ বালিকা বিদ্যামন্দির ফর গার্লস; এবং কলেজগুলি হল বঙ্গবাসী কলেজ, বিবেকানন্দ কলেজ ফর উইমেন এবং আশুতোষ কলেজ।
বর্তমানে অধ্যয়নরত ৩৮ জন কন্যাশ্রী, যারা এই প্রকল্পের আর্থিক অনুদানের সাহায্যে পেয়ে এখনো পড়াশোনা চালিয়ে যাচ্ছে এবং কন্যাশ্রী প্রকল্পের আওতায় এসে তারা আজ সচেতন ও আত্মবিশ্বাসী। বিভিন্ন বিষয়ে এরা অসামান্য কৃতিত্বের অধিকারী।
১২ জন কন্যাশ্রী, যারা কন্যাশ্রী প্রকল্পের সুবিধা লাভ করেছেন এবং সেই অনুদানে তাদের পড়াশুনা সুসম্পন্ন করতে পেরেছেন। তাদের কর্মক্ষেত্রে তারা আজ সফল -তাদের নিজস্ব ক্ষেত্রে তারা আজ স্বনির্ভর ও সু-প্রতিষ্ঠিত।
একইসঙ্গে, পশ্চিমবঙ্গের প্রতিটি জেলা নিজেদের জেলায় কন্যাশ্রী দিবসের অনুষ্ঠান আয়োজন করবে, যেখানে থাকবে-
অসাধারণ কৃতিত্বের অধিকারী কন্যাশ্রীদের সম্মাননা।
২০২৪-২৫ সালে প্রকল্প বাস্তবায়নে বিশেষ কৃতিত্ব অর্জনকারী স্কুল ও কলেজকে পুরস্কার প্রদান হয়।
কিশোরীদের কার্যকর ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার জন্য পেশা বিষয়ক সেমিনার/আলোচনা সভার আয়োজন হয়।


