রাগিনীর শেয়ার করা তথ্য অনুযায়ী, মনীশ এই লোভনীয় প্রস্তাবটি প্রত্যাখ্যান করেছেন মূলত কোম্পানির কঠোর নিয়মকানুন ও কর্মসংস্কৃতির কারণে। তাঁর অভিযোগের তালিকা ছিল দীর্ঘ:
কাজের নমনীয়তার অভাব: কোম্পানিটি বাড়ি থেকে কাজ (WFH) করার কোনো সুযোগ দেয়নি, বরং সপ্তাহে পাঁচ দিনই অফিসে গিয়ে কাজ করা বাধ্যতামূলক ছিল।
ছুটি নীতির অনুপস্থিতি: কর্মীদের জন্য কোনো নির্দিষ্ট বা যথাযথ ছুটি নীতি ছিল না।
রিলোকেশন বোনাস নেই: অন্য শহরে স্থানান্তরের ক্ষেত্রে কোম্পানি কোনো আর্থিক সহায়তা দিতে অস্বীকার করেছিল।
অসন্তোষজনক ইনক্রিমেন্ট: মনীশের আগের বেতনের তুলনায় মাত্র ২৫ শতাংশ বৃদ্ধির প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল, যা বর্তমান জীবনযাত্রার ব্যয়ের নিরিখে তাঁর কাছে অপর্যাপ্ত মনে হয়েছে।
'দাসত্ব' নয়, স্বাচ্ছন্দ্যই পছন্দ
প্রত্যাখ্যান পত্রে মনীশ অত্যন্ত বিনয়ের সাথে এইচআর-কে জানিয়েছেন, “যদি আমি ক্যারিয়ারের শুরুতে থাকতাম, তবে হয়তো মেনে নিতাম। কিন্তু এখনকার পরিস্থিতিতে এই চুক্তি কোম্পানির প্রতি পক্ষপাতদুষ্ট। এটি আমার জন্য সঠিক নয়।” বন্ধুর এই সিদ্ধান্তের পর বিন্দুমাত্র আক্ষেপ নেই দেখে অবাক হয়েছেন রাগিনী নিজেও।
নেটিজেনদের মিশ্র প্রতিক্রিয়া
এই ঘটনা ভাইরাল হতেই নেটিজেনদের মধ্যে দুই ধরনের মত তৈরি হয়েছে:
১. সমর্থন: অনেকে মনে করছেন, মানসিক শান্তি ও ব্যক্তিগত জীবন বিসর্জন দিয়ে কেবল টাকার পেছনে ছোটা উচিত নয়। এক নেটিজেন লিখেছেন, “যে টাকা মনের শান্তি কেড়ে নেয়, তার কোনো প্রয়োজন নেই।”
২. সতর্কবার্তা: অন্যদিকে, একাংশ মনে করছেন এটি একটি বড় ভুল। তাঁদের মতে, এভাবে এইচআর-কে কড়া ভাষায় উত্তর দিলে ওই ব্যক্তিকে ভবিষ্যতে সংশ্লিষ্ট ক্ষেত্রে 'ব্ল্যাকলিস্ট' করা হতে পারে।
টাকা বড়, নাকি আত্মসম্মান ও কাজের পরিবেশ? মনীশের এই ঘটনা সেই চিরন্তন বিতর্ককেই আরও উসকে দিল। আপাতত, সোশ্যাল মিডিয়ায় এই পোস্টটি আলোচনার শীর্ষে।