সোশ্যাল মিডিয়ায় একাধিক পোস্টে শতদ্রু লেখেন, ভোটে হারলেই সব শেষ হয়ে যায় না। তিনি আইনি লড়াই চালিয়ে যাবেন। প্রয়োজন হলে সুপ্রিম কোর্ট পর্যন্ত যাবেন। তাঁর কথায়, 'শুধু নির্বাচনে হেরে গিয়েছ বলে ভেবো না, শাস্তি হয়ে গিয়েছে। আমি মানহানির মামলা করব। দরকার হলে সুপ্রিম কোর্ট পর্যন্ত যাব। শেষ পর্যন্ত লড়ব'।
সল্টলেক স্টেডিয়ামে মেসির সফর ঘিরে ব্যাপক বিশৃঙ্খলা হয়েছিল। দর্শকদের ক্ষোভ, ধাক্কাধাক্কি, ভাঙচুর—সব মিলিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়। শেষ পর্যন্ত নির্ধারিত সময়ের আগেই অনুষ্ঠান শেষ করতে হয়। সেই ঘটনার জেরে গ্রেফতার হন শতদ্রু। তিনি-সহ আরও কয়েকজনের বিরুদ্ধে দু'টি পৃথক মামলা দায়ের করে পুলিশ। মোট ৩৭ দিন জেলে কাটাতে হয়েছিল তাঁকে।
অরূপ বিশ্বাসকে সরাসরি নিশানা
শতদ্রু তীব্র ভাষায় তৎকালীন ক্রীড়ামন্ত্রী অরূপ বিশ্বাসকে গোটা বিশৃঙ্খলার জন্য দায়ী করেছেন। তাঁর অভিযোগ, মেসির সঙ্গে ছবি তোলার জন্য অতিরিক্ত ভিড় তৈরি করেছিলেন মন্ত্রী ও তাঁর ঘনিষ্ঠরা। তাতেই উত্তপ্ত হয়ে ওঠে গোটা পরিস্থিতি। শতদ্রুর দাবি, বারবার সতর্ক করা সত্ত্বেও শোনা হয়নি। ক্ষোভের সঙ্গে মন্তব্য, 'বারবার বলেছিলাম এখানে ছবি তুলবেন না। কিন্তু দাদাগিরি করে তুলেছিল। এবার দ্যাখ কেমন লাগে। সব জবাব দিতে হবে'। যুবভারতীর সেদিনের একটি ছবি শেয়ার করে লেখেন, 'পাশে উনি মজা নিচ্ছেন নিজেদের লোক ঢুকিয়ে… আমার আর্তনাদ কেউ শোনেনি… পুলিশ চুপ করে ছিল!'
সূত্রের খবর, মেসিও এই পরিস্থিতিতে বিরক্ত হয়ে পড়েছিলেন। মাঠের ভিতরে এবং ভিআইপি অংশে যে বিশৃঙ্খলা জমে ওঠে, তা দর্শকদের মধ্যেও ক্ষোভ বাড়ায়। যে কারণে স্টেডিয়ামের বিভিন্ন অংশে ভাঙচুর ও লুঠপাঠ হয়।
আক্রমণে মনোজ তিওয়ারি
এই বিতর্কে নতুন মাত্রা যোগ করেছেন প্রাক্তন ভারতীয় ক্রিকেটার মনোজ তিওয়ারি। তৃণমূল ছাড়ার পর তিনিও অরূপ বিশ্বাসকে কড়া ভাষায় আক্রমণ করেছেন। মনোজের দাবি, 'খেলার এ, বি, সি, ডি কিছুই জানতেন না' প্রাক্তন ক্রীড়ামন্ত্রী। অভিযোগ, অরূপ বিশ্বাসের আমলেই রাজ্যের ক্রীড়ানীতি আটকে ছিল।
সাম্প্রতিক নির্বাচনে ১৫ বছরের শাসনের পর ক্ষমতা হারিয়েছে তৃণমূল কংগ্রেস। বিজেপি ২০৭টি আসন জিতে প্রথমবার বাংলার ক্ষমতায়। আর সেই রাজনৈতিক পালাবদলের আবহে ফের সামনে উঠে এল মেসি সফরের পুরনো বিতর্ক।