২৫ বছর কাজ করছি, এভাবে কথা বলবেন না: জ্ঞানেশ কুমারের অপমানের পালটা দিতেই সরে যেতে হল অবজার্ভারকে?

সঞ্চিতা চ্যাটার্জি, বিএস নিউজ এজেন্সি: ২০২৬-এর পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের দামামা বাজার সাথে সাথেই রাজ্য রাজনীতি এবং প্রশাসনিক অলিন্দে বইতে শুরু করেছে নজিরবিহীন ঝোড়ো হাওয়া। একদিকে অবাধ ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচন করতে নির্বাচন কমিশনের 'বজ্রআঁটুনি', আর অন্যদিকে সেই কড়াকড়িকে কেন্দ্র করে খোদ কমিশনের অন্দরেই তৈরি হওয়া এক বিস্ফোরক পরিস্থিতি। মুখ্য নির্বাচন কমিশনার (CEC) জ্ঞানেশ কুমারের মুখের ওপর সরাসরি প্রতিবাদ জানিয়ে এবং নিজের 'আত্মসম্মান' রক্ষায় সওয়াল করে পদ থেকে সরে যেতে হল কোচবিহার দক্ষিণের জেনারেল অবজার্ভার অনুরাগ যাদবকে। তবে এই 'বিদ্রোহের' মাসুল তাঁকে দিতে হয়েছে হাতেনাতে।

বাংলার ভোটের ইতিহাসে হিংসা, ছাপ্পা এবং কারসাজির অভিযোগ নতুন কিছু নয়। বাম আমল থেকে শুরু করে বর্তমান সময় পর্যন্ত প্রতিবারই নির্বাচনের আগে নির্বাচন কমিশন একগুচ্ছ কড়া পদক্ষেপ গ্রহণ করে। কিন্তু ২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনে সেই শাসন যেন আগের সব রেকর্ড ছাড়িয়ে গিয়েছে। পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে, খোদ কমিশন নিযুক্ত পর্যবেক্ষক এবং মুখ্য নির্বাচন কমিশনারের মধ্যে সরাসরি বাদানুবাদ এবং তার জেরে পদচ্যুতির মতো ঘটনা নজরে এল। 'গো ব্যাক হোম'
সূত্রের খবর, কোচবিহার জেলার স্পর্শকাতর পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনার সময় মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার অত্যন্ত কঠোর মনোভাব গ্রহণ করেন। কোচবিহারে সারাবছরই রাজনৈতিক দ্বৈরথ লেগেই থাকে, তাই নির্বাচনের সময় সেখান থেকে কোনো অভিযোগ আসুক তা চায় না কমিশন। আলোচনা চলাকালীন জ্ঞানেশ কুমার হঠাৎ কোচবিহার দক্ষিণের জেনারেল অবজার্ভার অনুরাগ যাদবকে একটি অত্যন্ত সাধারণ প্রশ্ন করেন: 'আপনার কেন্দ্রে কতগুলি বুথ রয়েছে?'

দীর্ঘ ২৫ বছরের অভিজ্ঞতাসম্পন্ন প্রবীণ আইএএস অফিসার অনুরাগ যাদব এই আকস্মিক প্রশ্নে কিছুটা ঘাবড়ে যান। প্রত্যক্ষদর্শীদের মতে, তিনি কিছুটা তোতলাতে শুরু করেন এবং কিছুক্ষণ পর উত্তর দেন যে তার কেন্দ্রে ১২৫টি বুথ রয়েছে। কিন্তু এই উত্তরে বিন্দুমাত্র সন্তুষ্ট হননি জ্ঞানেশ কুমার। নিজের দায়িত্বাধীন এলাকার বুথ সংখ্যা সম্পর্কে একজন পর্যবেক্ষকের স্পষ্ট ধারণা নেই কেন, এই প্রশ্নে রুষ্ট হন সিইসি। তিনি বিরক্তির সাথে বৈঠকে উপস্থিত সকলের সামনেই অনুরাগের উদ্দেশ্যে বলে ওঠেন, 'গো ব্যাক টু হোম' (বাড়ি চলে যান)!


Tags