পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী এবং তৃণমূল কংগ্রেস সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ঝাড়গ্রামে নির্বাচনী প্রচারে ভাষণ দিচ্ছেন। ছবি সঞ্চিতা চ্যাটার্জি/বিএস নিউজ এজেন্সি।
সঞ্চিতা চ্যাটার্জি, বিএস নিউজ এজেন্সি: রাজ্য রাজনীতিতে মহার্ঘ ভাতা বা ডিএ নিয়ে টানাপড়েনের মাঝেই শিক্ষক-শিক্ষিকাদের জন্য বড় ঘোষণা করলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। হাড়োয়ার এক জনসভা থেকে তিনি আশ্বাস দেন, ২০১৬ থেকে ২০১৯ সাল পর্যন্ত বকেয়া ডিএ শীঘ্রই পেতে চলেছেন রাজ্যের শিক্ষক-শিক্ষিকারা। নির্বাচনের প্রাক্কালে মুখ্যমন্ত্রীর এই ঘোষণাকে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল। দীর্ঘদিন ধরেই রাজ্যের সরকারি কর্মচারীদের পাশাপাশি শিক্ষকদের একাংশের মধ্যে বকেয়া ডিএ নিয়ে তীব্র ক্ষোভ দানা বেঁধেছিল। সম্প্রতি শিক্ষক সংগঠনের পক্ষ থেকে ডিএ বঞ্চনা নিয়ে সরব হয়ে নির্বাচনের ময়দানে তার প্রভাব দেখানোর হুঁশিয়ারিও দেওয়া হয়েছিল। এই পরিস্থিতিতে দাঁড়িয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় স্পষ্ট জানান, সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ মেনে ২০১৬-২০১৯ পর্যন্ত বকেয়া ডিএ রাজ্য সরকার ইতিমধ্যে সরকারি কর্মীদের একাংশকে দিয়েছে এবং শিক্ষকদের ক্ষেত্রেও সেই বকেয়া শীঘ্রই মেটানো হবে।
উল্লেখ্য, এবারের বাজেট অধিবেশনে রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে ৪ শতাংশ ডিএ বৃদ্ধির কথা ঘোষণা করা হয়েছিল, যা ১ এপ্রিল থেকে কার্যকর হওয়ার কথা। যদিও ভোট ঘোষণা হয়ে যাওয়ার পরেও সেই বর্ধিত ডিএ সংক্রান্ত বিজ্ঞপ্তি না আসায় কর্মচারাী মহলে এক প্রকার অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছিল। তার ওপর প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী বিজেপি ক্ষমতায় এলে সপ্তম বেতন কমিশন চালুর প্রতিশ্রুতি দেওয়ায় চাপ আরও বাড়ে।
তবে মুখ্যমন্ত্রী এদিন পাল্টা দাবি করেন, রাজ্য ইতিমধ্যেই সপ্তম বেতন কমিশনের ঘোষণা করেছে। শিক্ষক-শিক্ষিকাদের বকেয়া মেটানোর এই বার্তায় শিক্ষা মহলে জমে থাকা ক্ষোভ কিছুটা প্রশমিত হবে বলে মনে করছে শাসকদল। বাজেটে ঘোষিত ৪ শতাংশ বর্ধিত ডিএ এবং পুরনো বকেয়া মেটানো— এই দুই ইস্যু এখন ভোটের মুখে শিক্ষকদের মন জয়ে কতটা কার্যকরী হয়, সেটাই দেখার।