ছবি সঞ্চিতা চ্যাটার্জী, বিএস নিউজ এজেন্সি।
সঞ্চিতা চ্যাটার্জী, বিএস নিউজ এজেন্সি/PIB, কলকাতা, ৯ মার্চ, ২০২৬: মুখ্য নির্বাচন কমিশনার (CEC) শ্রী জ্ঞানেশ কুমার এবং নির্বাচন কমিশনার ড. সুখবীর সিং সান্ধু ও ড. বিবেক জোশী আজ কলকাতায় পশ্চিমবঙ্গের আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনের প্রস্তুতি নিয়ে একটি বিস্তারিত পর্যালোচনা করেন।
সফরের অংশ হিসেবে কমিশন, স্বীকৃত জাতীয় রাজনৈতিক দল- আম আদমি পার্টি, ভারতীয় জনতা পার্টি, ভারতের কমিউনিস্ট পার্টি (মার্ক্সবাদী), ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেস ও ন্যাশনাল পিপলস পার্টি এবং রাজ্যস্তরের স্বীকৃত রাজনৈতিক দল- অল ইন্ডিয়া ফরওয়ার্ড ব্লক ও অল ইন্ডিয়া তৃণমূল কংগ্রেসের প্রতিনিধিদের সঙ্গে মতবিনিময় করে তাদের পরামর্শ গ্রহণ করেন।
অধিকাংশ রাজনৈতিক দল পশ্চিমবঙ্গে নির্বাচন কমিশনের এসআইআর (SIR) প্রক্রিয়ার প্রশংসা করেন এবং কমিশনের ওপর তাদের পূর্ণ আস্থা ও বিশ্বাস ব্যক্ত করেন।
রাজনৈতিক দলগুলি আসন্ন নির্বাচনে ভোটারদের ওপর যে কোনো ধরনের হামলা বা ভীতি প্রদর্শন বন্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য কমিশনের কাছে দাবি জানান। তারা একটি শান্তিপূর্ণ, অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচন নিশ্চিত করার জন্য নির্বাচন কমিশনকে আহ্বান জানান।
দলগুলি প্রতিটি ভোটারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং নির্বাচনকালীন সহিংসতা রোধে বিপুল সংখ্যায় কেন্দ্রীয় বাহিনী (CAPF) মোতায়েনের অনুরোধ করেন। নির্দিষ্ট কিছু দলের পক্ষ থেকে দেশি বোমা, অবৈধ আগ্নেয়াস্ত্র, অর্থ এবং পেশিশক্তির অপব্যবহারের সম্ভাবনা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়।
রাজনৈতিক দলগুলি কমিশনকে এক বা দুই দফায় নির্বাচন সম্পন্ন করার অনুরোধ জানিয়েছেন।
মুখ্য নির্বাচন কমিশনার শ্রী জ্ঞানেশ কুমার রাজনৈতিক দলগুলিকে আশ্বস্ত করে বলেন যে, ভারতে নির্বাচন আইন অনুযায়ী অনুষ্ঠিত হয় এবং পশ্চিমবঙ্গে একটি নিরপেক্ষ, স্বচ্ছ, অবাধ ও সুষ্ঠু ভোট নিশ্চিত করতে কমিশন কোনো ত্রুটি রাখবে না।
শ্রী জ্ঞানেশ কুমার আরও বলেন যে, ভোটার বা নির্বাচনী কর্মীদের ওপর কোনো ধরনের সহিংসতা বা ভীতি প্রদর্শনের ক্ষেত্রে নির্বাচন কমিশন ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি গ্রহণ করবে।
রাজনৈতিক দলগুলি কমিশনকে আশ্বস্ত করেছে যে, পশ্চিমবঙ্গে একটি হিংসামুক্ত নির্বাচন নিশ্চিত করতে তারা পূর্ণ সহযোগিতা করবেন।
মুখ্য নির্বাচন কমিশনার পুনর্ব্যক্ত করেন যে, এসআইআর (SIR) অত্যন্ত স্বচ্ছতার সাথে সম্পন্ন করা হয়েছে। তিনি বলেন, এসআইআর-এর উদ্দেশ্য হলো এটি নিশ্চিত করা যে, কোনো যোগ্য ভোটার যেন বাদ না পড়েন এবং কোনো অযোগ্য ব্যক্তি যেন ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত না হন। তিনি আরও যোগ করেন যে, নাম অন্তর্ভুক্তিকরণ, বিয়োজন বা পরিবর্তনের জন্য এখনও ফর্ম ৬/৭/৮ জমা দেওয়া যেতে পারে।
পরবর্তীতে কমিশন আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলির প্রধান ও নোডাল অফিসার, আইজি, ডিআইজি, ডিভিশনাল কমিশনার, পুলিশ কমিশনার, জেলা নির্বাচনী আধিকারিক (DEO) এবং এসএসপি/এসপি-দের সঙ্গে নির্বাচনী পরিকল্পনা, ইভিএম ব্যবস্থাপনা, লজিস্টিকস, ভোট কর্মীদের প্রশিক্ষণ, আইনশৃঙ্খলা, ভোটার সচেতনতা এবং প্রচার কার্যক্রমের প্রতিটি দিক নিয়ে বিস্তারিত পর্যালোচনা করেন।
কমিশন আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলির সমস্ত প্রধান ও নোডাল অফিসারদের সম্পূর্ণ নিরপেক্ষতার সঙ্গে কাজ করার এবং ভোটারদের প্রলুব্ধ করার মতো যাবতীয় কর্মকাণ্ড কঠোরভাবে দমন করার নির্দেশ দিয়েছেন।
এছাড়া কমিশন সকল ডিইও-দের (DEO) নির্দেশ দিয়েছেন যেন ভোটারদের সুবিধার জন্য প্রতিটি ভোটকেন্দ্রে র্যাম্প, হুইলচেয়ার এবং পানীয় জলসহ ন্যূনতম সুযোগ-সুবিধা (AMF) সুনিশ্চিত করা হয়।