সঞ্চিতা চ্যাটার্জি, বিএস নিউজ এজেন্সি: বাংলার বিধানসভা ভোটের (West Bengal Assembly Election 2026) মধ্যে ফুলবদল করলেন লন টেনিস কিংবদন্তি লিয়েন্ডার পেজ (Leander Paes)। ২০২১ সালের অক্টোবরে গোয়া বিধানসভা নির্বাচনের আগে পানাজিতে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের (Mamata Banerjee) হাত ধরে তৃণমূলে যোগ দিয়েছিলেন তিনি২৬-এর ভোটে ঘাসফুল ছেড়ে পদ্ম ধরলেন। মঙ্গলবার বিজেপিতে যোগ দিলেন পেজ।
বিজেপিতে যোগ দিয়েই পেজ জানান, দেশের যুবসমাজকে শক্তিশালী করার লক্ষ্য নিয়েই তাঁর এই সিদ্ধান্ত। তাঁর কথায়, নরেন্দ্র মোদী এবং কিরেন রিজিজু তাঁকে অনুপ্রাণিত করেছেন। তাঁদের কাজ এবং নেতৃত্ব থেকে শেখার ইচ্ছেই তাঁকে এই পথে নিয়ে এসেছে বলে জানান তিনি।
যুবসমাজের উদ্দেশে তাঁর বার্তা, 'আগামী দিনে ভারতকে সুপার পাওয়ার হিসেবে গড়ে তুলতে হবে। সেই লক্ষ্যেই আমি কাজ করতে চাই। ক্রীড়াক্ষেত্রেও দেশ আরও সাফল্য পাক, সেটাই আমার আশা।' নিজের নতুন রাজনৈতিক ইনিংস প্রসঙ্গে পেজ বলেন, 'আমার জীবনের এটি একটি বড় দিন। গত ৪০ বছর দেশের হয়ে টেনিস খেলেছি, এবার অন্যভাবে দেশের সেবা করার সুযোগ পেলাম।'
এর আগে, গত ২৪ মার্চ কলকাতায় বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতির সঙ্গে তাঁর বৈঠক ঘিরে জল্পনা তৈরি হয়েছিল। তখনই ইঙ্গিত মিলেছিল যে, পেজের বিজেপিতে যোগদান প্রায় নিশ্চিত। অবশেষে সেই জল্পনাই সত্যি হল।
রাজনীতিতে যোগ দেওয়ার আগে থেকেই তাঁকে নিয়ে একাধিকবার জল্পনা তৈরি হয়েছিল। ২০১৯ সালের লোকসভা নির্বাচনের আগে রাহুল গান্ধীর সঙ্গেও তাঁর বৈঠক হয়েছিল। পরে তৃণমূলে যোগ দেওয়ার সময়ও শোনা গিয়েছিল, তাঁকে প্রার্থী করা হতে পারে, যদিও শেষ পর্যন্ত তা হয়নি।
এবারও তিনি নির্বাচনে প্রার্থী হবেন কিনা, তা নিয়ে এখনও স্পষ্ট কিছু জানা যায়নি। তবে রাজনৈতিক মহলের একাংশের মতে, ভবিষ্যতে ক্রীড়া প্রশাসনের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিতে পারেন পেজ। বিশেষ করে ২০৩৬ সালের অলিম্পিক আয়োজনের লক্ষ্যকে সামনে রেখে দেশে যে পরিকাঠামো গড়ে তোলা হচ্ছে, সেখানে তাঁর অভিজ্ঞতা কাজে লাগতে পারে।
সব মিলিয়ে, নির্বাচনের আগে লিয়েন্ডার পেজের এই দলবদল শুধু রাজনৈতিক অঙ্কই বদলাচ্ছে না, বরং ক্রীড়া ও রাজনীতির সংযোগ নিয়েও নতুন করে আলোচনা শুরু করেছে।