ছবি সঞ্চিতা চ্যাটার্জি/বিএস নিউজ এজেন্সি।
সঞ্চিতা বিএস নিউজ এজেন্সি নিজস্ব সংবাদদাতা, দক্ষিণ ২৪ পরগনা: রাজ্য বাজেট পেশের ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই তৃণমূল কংগ্রেস রাজ্য সরকারের জনমুখী প্রকল্পগুলিকে সাধারণ মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিতে কোমর বেঁধে নেমে পড়েছে। আজ, ৬ই ফেব্রুয়ারি, রাজ্যজুড়ে এবং দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলাতেও একটি সাংবাদিক সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। এই সম্মেলন থেকে জেলার শীর্ষ নেতৃত্ব বাজেটের খুঁটিনাটি এবং এর সুদূরপ্রসারী ইতিবাচক দিকগুলি তুলে ধরেন।
দক্ষিণ ২৪ পরগনা থেকে মূল বক্তারা:
জেলার এই গুরুত্বপূর্ণ সাংবাদিক সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন সুভাষীশ চক্রবর্তী (ডিপি, ডায়মন্ড হারবার যাদবপুর সাংগঠনিক জেলা), জয়দেব হালদার (ডিপি, সুন্দরবন), অশোক দেব (ডিসি, ডায়মন্ড হারবার যাদবপুর সাংগঠনিক জেলা), নমিতা সাহা (ডিসি, সুন্দরবন), মনমোহিনী বিশ্বাস (ডিএমপি, ডায়মন্ড হারবার যাদবপুর সাংগঠনিক জেলা) এবং কৌশিক রায় (ডিওয়াইপি, ডায়মন্ড হারবার যাদবপুর সাংগঠনিক জেলা)।
*নারী ও যুবকদের জন্য বাজেটের দিকনির্দেশনা:*
জেলা নেতৃত্ব সম্মেলনে একইসাথে দাবি করেন যে, এবারের বাজেট মূলত নারী ও যুবকদের আর্থিক মেরুদণ্ডকে শক্তিশালী করার বাজেট।
নারী ক্ষমতায়ন: নেত্রী নমিতা সাহা এবং মনমোহিনী বিশ্বাস আলোচনা করেন যে, লক্ষ্মীর ভান্ডার প্রকল্প থেকে শুরু করে স্বনির্ভর গোষ্ঠীগুলির জন্য বরাদ্দ বৃদ্ধি কীভাবে গ্রামীণ মহিলাদের সম্মান ও আত্মনির্ভরশীলতা নিশ্চিত করেছে।
*যুবকদের কর্মসংস্থান:* কৌশিক রায় এবং সুভাষীশ চক্রবর্তী তরুণ প্রজন্মের জন্য বাজেটে ঘোষিত বিভিন্ন বৃত্তিমূলক শিক্ষার বিষয়ে বিস্তারিত ব্যাখ্যা করেন।
*উন্নয়ন এবং সুন্দরবন প্রসঙ্গ:*
সুন্দরবন সাংগঠনিক জেলার সভাপতি জয়দেব হালদার এবং বরিষ্ঠ নেতা অশোক দেব বলেন যে, দক্ষিণ ২৪ পরগনার মৎস্যজীবী এবং সুন্দরবনের প্রত্যন্ত অঞ্চলের মানুষের উন্নয়নের জন্য বাজেটে বিশেষ মনোযোগ দেওয়া হয়েছে। সেচ ব্যবস্থার উন্নয়ন থেকে শুরু করে প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবেলার জন্য পরিকাঠামো নির্মাণ পর্যন্ত, এই বাজেট একটি বড় ভূমিকা পালন করবে।
*কেন্দ্রীয় বঞ্চনার বিরুদ্ধে প্রতিবাদ:*
আজকের সাংবাদিক সম্মেলন থেকে নেতৃত্ব কেন্দ্রীয় সরকারের বিরুদ্ধে বঞ্চনার অভিযোগও তোলেন। তারা বলেছেন যে, কেন্দ্র আবাসন প্রকল্প বা ১০০ দিনের কাজের জন্য তহবিল আটকে রাখলেও, মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় রাজ্যের নিজস্ব তহবিল থেকে বাংলার মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছেন।
সব মিলিয়ে, আজকের সাংবাদিক সম্মেলনের মাধ্যমে রাজ্যের তৃণমূল নেতারা এই বার্তা দিতে চেয়েছেন যে এই বাজেটটি 'মা-মাটি-মানুষের' জন্য একটি বাজেট এবং এটি প্রতিটি ঘরে হাসি ফোটাবে।